একাদশ শ্রেণীর পাঠ্যাংশ মেঘদুত হতে ভাবসম্প্রসারণ

উচ্চ মাধ্যমিক একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত পাঠ্যাংশ মেঘদুত হতে ভাবসম্প্রসারণ গুলি নিম্নে দেওয়া হল ।

Table of Contents

একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত পাঠ্যাংশ মেঘদুত হতে ভাবসম্প্রসারণ

উচ্চ মাধ্যমিক একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত পাঠ্যাংশ মেঘদুত হতে ভাবসম্প্রসারণ গুলি নিম্নে দেওয়া হল ।

মেঘদুত হতে ভাবসম্প্রসারণ –
আশাবন্ধঃ কুসুমসদৃশং প্রায়শো অঙ্গ নানাং
সদ‍্যংপতি প্রণয়ি হৃদয়ং বিপ্রয়োগে রুণদ্ধি।।


উঃ- মানুষ সামাজিক জীব। সংসারের বিভিন্ন সমস্যা ভারে মানুষ আজ খুবই অসহায়। জীবনে চলার পথে দুঃখ-কষ্ট শোক,মোহ প্রভৃতি সমস্যাতে মানুষ জর্জরিত। তবুও আশাকে অবলম্বন করে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। শত শত ব্যর্থতার মাঝে আশা জেগে থাকে প্রাণের স্পন্দনে।

রমণী প্রকৃতি পেলবা। রমণীর কোমল হৃদয় অতি অল্প আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়। প্রিয়তমের বিচ্ছেদ তাদের অসহনীয়। রমণী বেঁচে থাকে শুধুমাত্র আশাকে অবলম্বন করে। খুব শীঘ্রই আপনজনের সঙ্গে মিলন ঘটবে- এই আশাতে তারা জীবন ধারণ করে।

বিরহিনী রমণীর হৃদয়কে ফুলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বৃন্ত যেমন ফুলকে ধরে রাখে। ঠিক সেইরূপ প্রণয়ী হৃদয়কে ধরে রাখে আশা। আশাই হলো হৃদয় কুসুমের বৃন্ত স্বরূপ। আশা ভঙ্গ হলে সমস্ত মানুষের জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মে।

যক্ষপ্রিয়া ফুলের মতো কোমল। কুবেরের অভিশাপে সেই মন ভেঙ্গে চূর্ণ হয়ে গেছে। ভাঙ্গা মনে আশা ভরসাকে আশ‍্রয় করে যখন যক্ষপত্নী প্রিয়তমের জন্য অপেক্ষা করছে। কবি যক্ষ ও যক্ষপ্রিয়ার মাধ্যমে সমস্ত প্রেমিক-প্রেমিকাকে তুলে ধরেছেন।

মেঘদুত হতে ভাবসম্প্রসারণ – কামার্তা হি প্রকৃতকৃপনাশ্চেতচেতনেষুঃ


উঃ- আমাদের বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে দুই ধরনের পদার্থ বিদ্যমান।যথা- চেতন পদার্থ ও অচেতন পদার্থ। যার প্রাণ বা চৈতন‍্য আছে তা কেবলই চেতন পদার্থ এবং যার প্রাণ বা চৈতন্য নেই তাকে বলে অচেতন বা জড়পদার্থ। প্রাণী জগতে মনুষ‍্যদের বুদ্ধি চেতন সবচেয়ে বেশি। তাই তারা চেতন -অচেতন ভেদাভেদ করতে সক্ষম। কিন্তু কখনো মনুষ‍্যদেরও বুদ্ধি নষ্ট হয়। বিপদকালে মানুষের বুদ্ধি নাশ হয়। তেমনি আবার প্রেমিক পুরুষেরা তাদের প্রিয়া বিরহে কখনো অছবিবেচনার কাজ করে থাকে।

মানুষ প্রেমে অন্ধ।তাদের চেতন-অচেতন বোধ লুপ্ত হয়। বিভিন্ন সাহিত্যে এইরকম বিরহের বর্ণনা পাওয়া গেছে।যেমন – রামায়ণে রামচন্দ্রের সীতাবিরহ, ইংরেজি সাহিত্যে রোমিও জুলিয়েট এর জন্য জীবন বিপন্ন। তাই কালিদাস বলেছেন- ওরা কৃপার যোগ‍্য।

মেঘদুত হতে ভাবসম্প্রসারণ – যাঞ্চা মোঘা বরমাধিগুনে নাধমে লব্ধকামা।


উঃ- মনুষ্যসমাজে দেওয়া-নেওয়ার ইতিবৃত্ত কম নয়। অর্থাৎ মানুষকে দিতেও হয় এবং নিতেও হয়। এটা আমাদের চলার পথে অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু তাহলেও চাওয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে মানসিক দিকটি বিচার করা আবশ্যক। এই সমাজে দুই ধরনের মানুষ চোখে পড়ে-i)উত্তম ও ii) অধম। সৎ বা ভদ্র মানুষকে বলি উত্তম। অন্যদিকে স্বভাব-চরিত্র, কলুষিত মানুষকে বলি অধম। উত্তম ব‍্যাক্তি পরমাপকারী হয়। তিনি নিজেকে দান করে আনন্দিত হন। সুতরাং তার কাছেই চাওয়া উচিত। যদি তার দেওয়ার ক্ষমতা নাও থাকে, তবুও তার কাছে প্রার্থনা করা উচিত। অপরদিকে অধমের কাছে কিছু না চাওয়াই ভালো। কেননা অধম যাকে কিছু দেয় তাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে থাকে।


সুতরাং উত্তমের কাছে কিছু চাইলে ক্ষতির কোনো আশঙ্কা থাকে না। উত্তমের কাছে কিছু না পেলেও ক্ষতি নেই। উত্তম মহৎ,মহৎ-এর কাছে চেয়ে পাওয়া ভালো,না পেলেও ভালো।কারণ তাকে সেখানে আত্মবিক্রয় করতে হয় না।

মেঘদুত হতে ভাবসম্প্রসারণ – মেঘালোকে ভবতি সুখিনোঅপ‍্যানাথাবৃত্তিচেতঃ। কণ্ঠাশ্লেষ প্রণয়িণি জনে কিম্ পুণর্দুরসংস্থে”।


উঃ- বর্ষা মিলনে ঋতু আকাশে মেঘকে দেখে প্রণয়ী হৃদয় অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়ে। মেঘ দর্শনে প্রণয়ী হৃদয় ময়ূরের মতো পেখম তুলে নেচে ওঠে। তাই মেঘ হল তাদের কাছে কল্পতরু। অপরদিকে সুখী মানুষেও মেঘের দর্শনে মন কেমন করে ওঠে।

মেঘের গর্জনে সুখী মানুষকেও উদাস করে তাই সুখী ব্যক্তি যেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলে ওঠে –


“চিত্ত আমার হারাল আজ মেঘের মাঝখানে
কোথায় যেন ছুটে চলে, কোথায় কে জানে ”।


এই অত্যন্ত উত্তীর্ণ মেঘকে দেখে বিরহি কিংবা সুখী মানুষেই হোক, তাদের মন উদক্রান্তের মতো মেঘের পাখায় ভর করে আকাশে উড়ে চলে।

মেঘদুত হতে ভাবসম্প্রসারণ – প্রীতঃ প্রীতিপ্রমুখবচনং স্বাগতং ব‍্যজহার

অপরের মাধ্যমে নিজের কার্যসিদ্ধি করতে হলে কিছু নীতি প্রয়োগ করতে হয় যেমন তার সাথে প্রথমে মধুর বাক্যে কথা বলতে হয় এবং দ্বিতীয়তঃ তাকে প্রশংসার মাধ্যমে ভরিয়ে তুষ্ট করতে হয়।
সমাজে দেখা যায় নিজের কার্যসিদ্ধির জন্য প্রশংসা বাক্যে ও মিষ্টি মিষ্টি ভাষায় অনুরোধ করেন তাদের কথা অন্যের পক্ষে ফেলে দেওয়া সম্ভব হয় না।
সেইরূপ পাঠ্যাংশ দেখি যক্ষ মেঘে দৌত কার্যের জন্য প্রশংসাসূচক বাক্যে অনুরোধ করেছেন।

উচ্চ মাধ্যমিক একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত পাঠ্যাংশ মেঘদুত হতে প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment