শ্লেষ অলংকার সম্পর্কে আলোচনা

সাহিত্যদর্পণ গ্রন্থের দশম পরিচ্ছেদ অনুসারে শ্লেষ অলংকার সম্পর্কে সহজভাবে আলোচনা করা হল । শ্লেষ অলংকারের লক্ষণ প্রকারভেদ উদাহরণ সহ বাখ্যা করা হল।

শ্লেষ অলংকার

শ্লেষ অলংকারের লক্ষণ

আচার্য বিশ্বনাথ কবিরাজ তার “সাহিত্যদর্পণ” গ্রন্থের দশমপরিচ্ছেদের শ্লেষ অলংকারের লক্ষণ প্রসঙ্গে বলেছেন-

“শ্লিষ্টৈ : পদৈরনেকার্থাভিধানে শ্লেষ ইষ্যতে।
বর্ণপ্রত্যয় লিঙ্গানাং প্রকৃত্যো : পদয়োরপি।
শ্লেষাদ্বিভক্তি-বচন-ভাষাণামষ্টধা চ স :।।”

অর্থ:-

একই রূপ পদের দ্বারা যখন একাধিক অর্থ প্রকাশ করে, তখন যে অলংকার হয়, তাকে শ্লেষ অলংকার বলা হয়।বর্ণ,প্রত্যয়,লিঙ্গ,প্রকৃতি(ধাতু,প্রাতিপদি-ক), পদ(সুবন্ত,তিঙন্ত), বিভিক্ত, বচন এবং ভাষা প্রভৃতির দিক থেকে শ্লেষ আট প্রকার।

শ্লেষ অলংকারের বাখ্যা

বর্ণ,প্রত্যয় প্রভৃতির দিক থেকে অভিধা শক্তির দ্বারা একাধিক অর্থ প্রকাশ করে। একই পদের একাধিক অর্থের শ্লেষ ঘটে বলে এই অলংকারের নাম শ্লেষ হয়েছে। শ্লেষ শব্দের অর্থ হল- জড়িয়ে থাকা। যাইহোক এই অলংকার উচ্চারণের উপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে আছে বলে শ্লেষ একপ্রকার শব্দালংকার।

শ্লেষ অলংকারের প্রকারভেদ


প্রাচিন মত অনুসারে শ্লেষ অলংকার আটপ্রকার। তবে আচার্য বিশ্বনাথের মতে শ্লেষ অলংকার তিন প্রকার, যথা-

  • ¡) অভঙ্গ,
  • ¡¡) সভঙ্গ
  • ¡¡¡) উভয়াত্মক।

শ্লেষ অলংকারের উদাহরণ

“সর্বস্ব হর সর্বস্য ত্বং ভবচ্ছেদতৎপর :।
নয়োপকার সাংমুখ্যমায়াসি তনুবর্তনম্।।”

অর্থ:-

শিবপক্ষে – হে মহাদেব! তুমি সকলের সমগ্র ধনস্বরূপ। তুমি তোমার ভক্তদের জন্ম বন্ধন ছেদন করে মোক্ষদান কর। তুমি নীতি উপদেশ দান করার জন্য অবতার মূর্তি গ্রহণ করে আগমন কর।
চোর পক্ষে – তুমি সকলের সর্বধন হরন কর। তুমি সিধ কাটতে তৎপর হও। পরের উপকার ত্যাগ করে পরিশ্রম বিশিষ্ট পরগৃহে চুরির জন্য দেহকে সিধের মধ্যে প্রবেশ করাও।

শ্লেষ অলংকারের তাৎপর্য:-

এখানে “হর” শব্দের দুটি অর্থ- ¡) শিব এবং ¡¡) হরণ করা। “ভব” শব্দের দুটি অর্থ হল- ¡) হও এবং ¡¡) জন্ম। “আয়াসি” শব্দের দুটি অর্থ হল- ¡) পরিশ্রমবিশিষ্ট এবং ¡¡) আগমন করা। অতএব, বিভিন্ন পদের অভিধা শক্তির দ্বারা বিভিন্ন অর্থ প্রকাশিত হওয়ায় উক্ত শ্লোকটি শ্লেষ অলংকারের স্বার্থক উদাহরণ হয়েছে।

আরো কতকগুলি অলংকার সম্পর্কে আলোচনা করা হল

Leave a Comment