কর্মযোগ পদ্যাংশ-উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত

উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত কর্মযোগ পদ্যাংশ হতে শ্লোকগুলির বঙ্গানুবাদ নিম্নে দেওয়া হল। নিচে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত সিলেবাস অনুসারে কর্মযোগ হতে প্রশ্ন উত্তর দেওয়া হল।

Table of Contents

উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত-কর্মযোগ

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -১

ন কর্মণামনারম্ভাণৈষ্কম‍্যং পুরুষোঅশ্নুতে।
ন চ সন্ন‍্যসনাদেব সিদ্ধিং সমধিগচ্ছতি।১

অন্বয় ও শব্দার্থঃ-

কর্মণাম(কর্মসমূহের ) অনারম্ভাৎ(আরম্ভ না হলে) পুরুষঃ (মুক্তিকামী জীব) নৈষ্কর্ম‍্যং (কর্মবন্ধন থেকে মুক্তি) ন অশ্নুতে(লাভ করতে পারেনা) সন্ন‍্যসনাদেব(সন্ন‍্যাস গ্রহন করলেই ) চ (এবং) সিদ্ধিং (যুক্তিলাভ) ন সমধি গচ্ছতি( লাভ করতে পারে না)।

বঙ্গানুবাদঃ-

কর্মের অনুষ্ঠান না করে কেউ মোক্ষলাভ করতে পারে না। কর্মযোগে চিত্তশুদ্ধি, আত্মবিবেক জাগ্রত না হলে কর্ম বন্ধন থেকে মুক্তি হয় না। আবার জ্ঞান ছাড়া কর্ম ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করলেও কেউ মুক্তি লাভ করতে পারে না।

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -২

ন হি কশ্চিৎ ক্ষণমপি জাতু তিষ্ঠত‍্যকর্মকৃত।
কার্যতে হ‍্যবশঃ কর্ম সর্বঃ প্রকৃতিজৈগুর্নৈ।।২

অন্বয় ও শব্দার্থঃ-

জাতু (কখনই) ক চিৎ(কেউ) ক্ষণমপি( একমুহূর্ত) অকর্মনাৎ(কর্ম না করে) ন হি তিষ্ঠতি(থাকতে পারে না) হি (কারণ) প্রকৃতিজৈঃ( প্রকৃতিজাত) গুর্নৈ(গুন গুলির দ্বারা) হ‍্যবশঃ( অধীন হয়ে) সর্বঃ( সকলেই) কর্ম(কাজ) কার্যতে( করতে বাধ‍্য হয়)।

বঙ্গানুবাদঃ-

কখনই কেউ একমুহূর্ত কার্য না করে থাকতে পারে না। কারন প্রকৃতিজাত গুন গুলির দ্বারা অধীন হয়ে সকলেই কাজ করতে বাধ‍্য হয়।

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -৩

কর্মেন্দ্রিয়াণি সংযম‍্য য আস্তে মনসা স্মরন্।
ইন্দ্রিয়ার্থান বিমূঢ়াত্মা মিথ‍্যাচারঃ স উচ‍্যতে।।৩

অন্বয় ও শব্দার্থঃ-

যঃ (যে ব‍্যাক্তি) কর্মেন্দ্রিয়াণি(কর্মেন্দ্রিয় গুলিকে)সংযম‍্য(সংযত করে) মনসা(মনে মনে) ইন্দ্রিয়ার্থান(ইন্দ্রিয় ভোগ‍্য বিষয় গুলিকে) স্মরন আস্তে(চিন্তা করতে থাকেন ) স (সেই ব‍্যাক্তিকে) বিমূঢ়াত্মা(অজ্ঞানী) মিথ‍্যাচারঃ ( মিথ‍্যাবাদী) উচ‍্যতে(বলা হয়)।

বঙ্গানুবাদঃ-

যে ব্যক্তি কর্মেন্দ্রিয় গুলিকে সংযত করে মনে মনে ইন্দ্রিয় ভোগ্য বিষয়গুলিকে উপভোগ করে। সেই অজ্ঞানী ব্যক্তি মিথ্যাচারী বলে কথিত হয়।

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -৪

যস্ত্বিন্দ্রিয়াণি মনসা নিয়ম‍্যারভতেঅর্জুন।
কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ কর্মযোগমসক্তঃ স বিশিষ‍্যতে।। ৪

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -৫

নিয়তং কুরু কর্ম তং কর্ম জ‍্যায়ো হ‍্যকর্মণঃ।
শরীরযাত্রাপি চ তে ন প্রসিধ‍্যেদকর্মণাঃ।।৫

অন্বয় ও শব্দার্থঃ-

ত্বম্(তুমি) নিয়তং(সর্বদা) কর্ম(নিত‍্যকর্ম)কুরু(কর) হি (কারন) অকর্মণঃ (কর্ম না করা থেকে ) কর্ম(কাজ) জ‍্যায়ো(শ্রেষ্ঠ) চ (এবং) অকর্মণ(কর্মহীন) তে (তোমার) শরীরযাত্রাপি(জীবনযাত্রাও) ন প্রসিধ‍্যেৎ( নির্বাহ হয় না)।

বঙ্গানুবাদঃ-

হে অর্জুন তুমি প্রতিনিয়ত শাস্ত্রবিহিত কর্ম কর। কারণ কর্ম না করার চেয়ে কর্ম করাই ভালো। কর্মহীন হলে তোমার জীবনযাত্রাও নির্বাহ হবে না।

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -৬

তস্মাৎ সক্তঃ সততং কার্যং কর্ম সমাচর।
অসক্তো হ‍্যাচরণ কর্ম পরমাপ্নোতি পুরুষঃ।।৬

অন্বয় ও শব্দার্থঃ-

তস্মাৎ (সেই জন‍্য) অসক্তঃ (অনাসক্ত) সততং (সর্বদা) কার্যং (কর্তব্য )কর্ম (কাজ) সমাচার (সম্পাদন কর)। হি (কারন) অসক্তঃ (অনাসক্ত) কর্ম (কাজ) আচরন (অনুষ্ঠান করলে) পুরুষ (মানুষ) পরম (শ্রেষ্ঠ স্থান ) আপ্নোতি( প্রাপ্ত করে)।

বঙ্গানুবাদঃ-

হে অর্জুন তাই অনাসক্ত হয়ে তুমি সর্বদা কর্তব্য কর্ম সম্পাদন কর। কামনা শূন্য হয়ে কর্ম করলে মানুষ অবশ্যই মোক্ষ লাভ করে।

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -৭

কর্মনৈব হি সংসিদ্ধিমাস্থিতা জনকাদয়ঃ।
লোকসংগ্রহমেবাপি সংপশ‍্যন কর্তুমর্হসি।।৭

অন্বয় ও শব্দার্থঃ-

কর্মণা এব হি (নিষ্কাম কর্মের দ্বারাই) জনকাদয়ঃ( জনক প্রমুখ মহাপুরুষগন) সংসিদ্ধিম(সিদ্ধিলাভ) আস্থিতা(করেছিলেন) লোক সংগ্রহমঅপি (সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন‍্যই) সংপশ‍্যম(দৃষ্টি রেখে) কর্তুম এব অহর্সি(কর্ম করা উচিত)।

বঙ্গানুবাদঃ-

নিষ্কাম কর্মের দ্বারাই জনক প্রমুখ মহাপুরুষগণ সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। সৃষ্টিকে রক্ষা করার দিকে দৃষ্টি রেখে (হে অর্জুন) তোমারও কর্ম করা উচিত।

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -৮

যদ্ যদাচরতি শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবেতরো জনঃ।
স যত্ প্রমাণাং কুরুতে লোকস্তদ অনুবর্ততে।।৮

অন্বয় ও শব্দার্থঃ-

শ্রেষ্ঠঃ( মহান ব‍্যাক্তি) যৎ যৎ আচরতি(যে রূপ আচরন করেন) ইতরোজনঃ(অজ্ঞানী জীব) তৎ তৎ এব আচরতি(সেই রূপ আচরন করেন) স(তিনি) যৎ (যা) প্রমাণং(প্রমাণ) কুরুতে(করেন) লোকঃ(সাধারন মানুষ) তৎ (তাই) অনুবর্ততে(অনুসরন করেন)।

বঙ্গানুবাদঃ-

মহান ব্যক্তি যেরূপ আচরণ করেন অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিও সেইরূপ আচরণ করে থাকেন। তিনি (শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি) যা প্রামাণ‍্য বলে গ্রহন করেন, সাধারণ ব্যক্তিও তা অনুসরণ করে থাকেন।

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -৯

ন মে পার্থাস্তি কর্তব‍্যং ত্রিষু লোকেষু কিঞ্চন।
নানবাপ্তমবাপ্তব‍্যং বর্ত এব চ কর্মণি।।৯

অন্বয় ও শব্দার্থঃ-

পার্থ! (হে অর্জুন) ত্রিষু লোকেষু(ত্রিলোকে) মে(আমার) কর্তব‍্যং নাস্তি(কর্তব‍্য কিছু নেই) অনবাপ্তম্(অপ্রাপ্ত) অবাপ্তব‍্যম্(অপ্রাপ‍্য) কিঞ্চল(কিছুমাত্র) ন(নেই)[তথাপি- তবুও] কর্মণি(কর্মে) বর্ত এব চ (যুক্ত করেছি)।

বঙ্গানুবাদঃ-

হে অর্জুন ত্রিলোকে আমার কর্তব্য কিছু নেই। অপ্রাপ্ত অপ্রাপ্য কিছুমাত্র নেই। তবুও কর্মে নিজেকে যুক্ত করেছি।

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -১০

যে মে মতমিদং নিত‍্যমনুতিষ্ঠন্তি মানবাঃ
শ্রদ্ধাবন্তো অনসূয়ন্তো মুচ‍্যন্তে তে অপি কর্মভিঃ।

অন্বয় ও শব্দার্থঃ-

যে (যে সমস্ত) মানবাঃ( মানব) শ্রদ্ধাবন্তঃ(শ্রদ্ধাবান হয়ে) অনসূয়ন্তে(ঘৃনা হিংসা না করে) মে (আমার) ইদম্(এই) মতম্(মতবাদ) নিত‍্যম্ (প্রতিদিন) অনুতিষ্ঠন্তি(অনুসরন করে) তে অপি (তারাও) কর্মভি( কর্ম বন্ধন থেকে) মুচ‍্যন্তে (মুক্তি পায়)।

বঙ্গানুবাদঃ-

যে সকল মানুষ শ্রদ্ধাবান হয়ে ঘৃণা হিংসা ত্যাগ করে আমার (শ্রীকৃষ্ণের) এই মতবাদ প্রতিদিন পালন করে তাদেরও কর্ম বন্ধন থেকে মুক্তি সম্ভব।

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -১১

শ্রয়ান স্বধর্মো বিগুনঃ পরধর্মাত্ স্বনুষ্ঠিতাত্।
স্বধর্মে নিধানং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ।।১১

আরো দেখুন

উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত কর্মযোগ হতে ভাবসম্প্রসারণগুলি

কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -৯যদ যদাচরিত শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবতরাে জনঃ
কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -১১স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়: পরধর্মো ভয়াবহ:
কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -১ন চ সন্ন্যসনাদেব সিদ্ধিং সমধিগচ্ছতি
কর্মযোগ পদ্যাংশ শ্লোক -৬অসক্তো হ্যাচরণ কর্ম পরমাপ্লোতি পুরুষঃ
কর্মযোগ হতে ভাবসম্প্রসারণগুলি

উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত কর্মযোগ গীতা তাৎপর্য ব্যাখ্যা

উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত কর্মযোগ হতে বড় প্রশ্ন

কর্মযােগে যে কর্মের মাহাত্ম্য বর্ণিত তা লেখ ? 

কর্মযোগ হতে ছোট প্রশ্ন ও উত্তরগুলি পড়ুন

কর্মযোগ হতে ছোট প্রশ্ন ও উত্তর