কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্যের বনপর্ব হতে ছোট প্রশ্ন

মহাকবি ভারবি রচিত কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্যের বনপর্ব ছোট প্রশ্নগুলি আলোচনা করা করা হল।

কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্যের বনপর্ব ছোট প্রশ্ন

১) কিরাতার্জুনীয়ম্ এর রচয়িতা কে?
উঃ-কিরাতার্জুনীয়ম্ এর রচয়িতা হলেন ভারবি।


২) ভারবি কি কি বিশেষণে ভূষিত?
উঃ- মহাকবি, ভদন্ড, ছত্রভারবি প্রভৃতি বিশেষণে ভূষিত।

৩) কিরাতার্জুনীয়ম্ এর উৎস কি? এতে কটি সর্গ আছে?
উঃ- কিরাতার্জুনীয়ম্ এর উৎস হল মহাভারতের বনপর্ব। এছাড়া শিবপুরাণ হতেও কিছু তথ্য গৃহীত হয়েছে।এই মহাকাব্যে ১৮টি সর্গ আছে।


৪) কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্যে বিশিষ্ট টীকা ও টীকাকারের নাম লেখ?
উঃ- টীকাকার হলেন মল্লিনাথ এবং তার টীকার নাম হল ঘন্টাপথ।


৫) মল্লিনাথ ভারবির মহাকাব্যটি কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উঃ- নারিকেল ফলের সাথে তুলনা করেছেন।
নারিকেল ফল সম্বিতং বচো ভারবেঃ।


৬) ভারবি কোন সময়ের কবি?
উঃ-ভারবি ষষ্ঠশতাব্দীর সময়ের কবি।


৭) টিকাকার মল্লিনাথের সম্পূর্ণ নাম কি?
উঃ-মহামহোপাধ্যায় কোলাচলসুরী মল্লিনাথ।


৮)কোন শিলালেখে কালিদাসের নামের সঙ্গে ভারবির ন‍্যায় উল্লেখিত হয়েছে?
উঃ- দ্বিতীয় পুলকেশীর আমলে রবি কীর্তি রচিত আইহোল শিলালেখে কালিদাসের সঙ্গে ভারবির নাম উল্লিখিত হয়েছে ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে রচিত।

৯)ভারবির পিতা-মাতা ও স্ত্রীর নাম কি?
উঃ-পিতা- শ্রীধর( নারায়ণস্বামী)।
মাতা- সুশিলা, স্ত্রী – রসিকা।
গোত্র- কৌশিক,অপর নাম- দামোদর।


১০) ভারবি কি জন্য বিখ্যাত?
উঃ- সাহিত্যে ভারবি অর্থগৌরব গুনের জন্য বিখ্যাত। অর্থাৎ ভারবেরর্থগৌরবম্

১১) কুরুদেশের রাজা কে ছিলেন? যুধিষ্ঠির বনেচরকে কি জন্য নিযুক্ত করেছিলেন?
উঃ- কুরুদেশের রাজা ছিলেন দুর্যোধন।
যুধিষ্ঠির বনেচরকে নিযুক্ত করেছিলেন।কারণ দুর্যোধনের রাজ্যের অবস্থা,তার রাজ্যশাসন প্রণালী এবং প্রজাদের প্রতি ব্যবহার জানার জন্য বনেচরকে নিযুক্ত করেছিলেন।


১২) বনবাসকালে যুধিষ্ঠির কোথায় বাস করেছিলেন?
উঃ- দ্বৈতবনে।

১৩) দ্বৈতবন কি?
উঃ- দ্বৈতবন হল জলাশয় বেষ্টিতবন। মহাভারত উল্লেখ আছে যেখানে সুখ এবং মোহ নেই।তাই হল দ্বৈতবন।


১৪) বনেচর পদটির সমাস নির্ণয় করো?
উঃ- বনে চরতি ইতি (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।


১৫) বর্ণিলিঙ্গি পদটি বিশ্লেষণ করো।
উঃ-বর্ণিলিঙ্গিম্। বর্ণিলিঙ্গ+ইন=বর্ণিলিঙ্গি।


১৬) কৃতপ্রণামস‍্য মহীং মহীভুজে- কে কাকে কখন প্রণাম করেছিল? মহিম শব্দের অর্থ কি? মহীভূজ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উঃ- বনেচর বা কিরাত দুর্যোধনের রাজ্য শাসন পদ্ধতি জেনে যুধিষ্ঠিরের নিকটে উপস্থিত হয়ে রাজা যুধিষ্ঠিরকে প্রণাম জানিয়েছিলেন।
মহীম শব্দের অর্থ হল পৃথিবী। মহীভূজ শব্দের অর্থ রাজাকে। এখানে রাজা যুধিষ্ঠিরকে বোঝানো হয়েছে।


১৭) ন বিব‍্যথে তস‍্য মর্ণ- তস‍্য পদের দ্বারা কাকে বোঝানো হয়েছে? কার মন ব্যতীত হল না কেন?
উঃ- তস‍্য পদের দ্বারা ব্রহ্মচারীর বেশধারী বনেচর বা কিরাতকে বোঝানো হয়েছে।
এখানে বনেচরের মন ব্যথিত হল না। কারন সত্য ও যথার্থ ঘটনা জানতে পারলে তার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে সুবিধা হবে। এছাড়া বনেচর রাজার হিতৈষিন। হিতৈষিন ব্যক্তিরা অপ্রিয় হলেও সত্য কথা বলে থাকেন।


১৮)কোন ব্যক্তিগত মিথ্যা প্রিয় বাক্য বলে না?
উঃ- হিতৈষী ব‍্যাক্তিগন।


১৯) শ্রী কথার অর্থ কী? এই শব্দ দ্বারা দুর্যোধন কাকে বুঝিয়েছেন?
উঃ- শ্রী কথার অর্থ হল-লক্ষ্মী।
এই শব্দ দ্বারা দুর্যোধন রাজলক্ষ্মীকে বোঝানো হয়েছে।


২০) দ্বিষাং পদটির অর্থ কী? এই পদটির দ্বারা কাকে বোঝানো হয়েছে?
উঃ- দ্বিষাং পদটির অর্থ শত্রুদের। অর্থাৎ দ্বিষাং পদটির দ্বারা দুর্যোধনকে বোঝানো হয়েছে।

২১) ভারবি মঙ্গলাচার কিভাবে করেছেন?
উঃ- ভারবির মঙ্গলসূচক শ্রী প্রতিসর্গের প্রথমে এবং লক্ষ্মী শব্দ প্রতি সর্গের শেষে করেছেন।


২২) বনাচরের বচন ভঙ্গি কিরূপ?
উঃ- যুধিষ্ঠিরের প্রেরিত দূত বনচরের বচনভঙ্গি ছিল সুন্দর সুন্দর শব্দ বিশিষ্ট সুন্দর সুন্দর অর্থযুক্ত এবং নিশ্চিন্ত অর্থযুক্ত।


২৩) চারুচক্ষু কারা? অথবা রাজাদের চারচক্ষু বলা হয় কেন?
উঃ- সচার রাজা চারচক্ষু বিশিষ্ট কারন রাজারা নিজেদের দুটি চক্ষু ছাড়া চরেদের চক্ষু দ্বারা প্রজাদের অবস্থা দেখে থাকেন।


২৪) অরিষড়বর্গ কি?
উঃ- কাম,ক্রোধ,লোভ,মদ,মোহ এবং মাৎসর্থ- এই দুটিকে অরিষড়বর্গ বলা হয়।


২৫) দূর্যোধনের ধনুর্ধরদের গুনাবলীর পরিচয় দাও।
উঃ- দুর্যোধনের ধনুর্ধর ছিলেন কুলাভিমানি,মহাবলশালী অর্থ দ্বারা সন্মানিত এবং সংগ্রামের লব্ধকীর্তি। এমনকি তারা দুর্যোধনের জন‍্য প্রাণ ত‍্যাগ করতে পারে।

২৬) বিনোতিহব‍্যেন”হিরণ‍্যরেতসম্’- হিরন‍্যরেতসম্ শব্দের অর্থ কী? মখেষু ও পুরোধা শব্দের অর্থ কী? কে কাকে কীভাবে প্রীত করেছেন?
উঃ- হিরণ‍্যরেতসম্ শব্দটির দ্বারা অগ্নিদেবতাকে বোঝাচ্ছে।
মখেষু শব্দের অর্থ বিভিন্ন যজ্ঞে।
পুরোধষা শব্দের অর্থ পুরোহিতের দ্বারা।
রাজা দুর্যোধন নবযৌবনোদ্ধত দুঃশাসনকে যৌবরাজ্যে অভিসিক্ত করে পুরোহিতের অনুমতি অনুসারে যজ্ঞে হবি প্রদান করে অগ্নি দেবতাকে সন্তুষ্ট করেছেন।


২৭) ব্রজন্তি তে মূঢ়ধিয়ঃ পরাভবম্ – কে এই উক্তি করেছেন? তে বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উঃ- যুধিষ্ঠিরের পতি দ্রৌপদী এই উক্তিটি করেছেন।
যারা শঠের প্রতি শঠ আচরণ করে না এবং পরাজয় মেনে নেয়, সেই মূঢ় ব‍্যাক্তিদের তে পদের দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে।


২৮) কিরূপ বাক‍্য জগতে দুর্লভ?
উঃ- হিতং মনোহারি চ দুর্লভং বচঃ – অর্থাৎ হিতকর অথচ মনোহর বাক্য জগতে দুর্লভ।


২৯) কিংসখাঃ ও কিংপ্রভুঃ কী?
উঃ- যিনি (মন্ত্রী ) রাজাকে সৎ উপদেশ দেন না তিনি কিংসখা। যে রাজা হিতৈষীর নিকট থেকে সৎ উপদেশ শুনেন না তিনি কিংপ্রভু।

৩০) দুর্যোধনের ভেদনীতি কেমন ছিল?
উঃ- দুর্যোধনের ভেদনীতি ছিল পক্ষপাতশূন্য অর্থাৎ তিনি সর্বদা ভৃত‍্যগনকে প্রিয়বন্ধুর মতো, বন্ধু দিগকে আত্মীয়দের সমান সম্মান দেখান এবং আত্মীয়গনকে তাদেরই যেন রাজত্ব এরূপ দেখান।


৩১) দুর্যোধন কীভাবে ধর্মবিপ্লব দমন করতেন?
উঃ- ধর্মবিপ্লব হল ধর্মের গ্লানি অর্থাৎ দুর্যোধন অর্থলাভের ইচ্ছায় নয়, ক্রোধবশত নয়, স্বধর্ম জ্ঞানে শত্রুর উপরেই হোক আর পুত্রের উপরে হোক গুরু কর্তৃক উপদৃষ্ট দন্ডের দ্বারা তিনি ধর্মের গ্লানি বা বিপর্যয় দমন করতেন।

৩২) উদাজ হার দ্রুপদত্মজা গিরঃ- দ্রুপদাত্মজা কে? তিনি কি কথা বলেছিলেন?
উঃ- দ্রুপদ আত্মজা হলেন দ্রুপদ রাজকন‍্যা দ্রৌপদী।
তিনি শত্রুদের অভ্যুদয় বার্তা শুনে নিজের মনোব্যথা দমন করতে না পেরে রাজা যুধিষ্ঠিরের ক্রোধ ও উৎসাহ-উদ্দীপক বাক‍্যগুলি বলেছিলেন।


৩৩) দ্রৌপদী মতে কারা পরাস্ত হন এবং এর কারনস্বরূপ কী বলেছেন?
উঃ- যে সমস্ত মূঢ় ব‍্যাক্তি মায়াবীদের প্রতি মায়াবী হয় না- অর্থাৎ শঠের প্রতি শঠ আচরণ করেন না তারা পরাস্ত হন এবং তার কর হিসাবে বলেছেন বর্মহীন শরীরে তীক্ষ্ণ বানগুলি শরীরে প্রবেশ করে যেমন করে মানুষকে হত্যা করে, সেরূপ শঠ ব্যক্তিরাও অমায়িক ব্যক্তিদের বিনষ্ট করে।

৩৪) কার প্রতি সকলে বশীভূত হন এবং কাকে মানুষ ভয় করে না?
উঃ- যার ক্রোধ নিষ্ফল হয় না এবং যিনি সকল বিপদ বিনাশ করে থাকেন। লোকেরা নিজে থেকেই তার বশীভূত হন।
ক্রোধহীন ব‍্যাক্তি মিত্র হলেও লোকে তাকে আদর করে না আবার শত্রু হলেও ভয় করে না।


৩৫) কিরাতার্জুনীয়মের প্রথমে কোন সর্গ এবং শেষে কোন সর্গ?
উঃ- কিরাতার্জুনীয়মের প্রথম সর্গে শ্রী এবং শেষের সর্গে লক্ষ্মী।


৩৬) নয়বর্ত্ম কি?
উঃ- কৌটিল‍্যের অর্থশাস্ত্র অনুসারে সন্ধি,বিগ্রহ,যান, আসন,সংস্থান, দ্বৈধীভান এই ছয়টি গুনকে ষড়গুন বলা হয়। এই ষড়গুনের প্রয়োগ পদ্ধতিকে বলা হয় নয়বর্তন

৩৭) ত্রিগণ কী?
উঃ- ধর্ম,অর্থ,কাম এগুলিকে একত্রে ত্রিগণ বলা হয়।


৩৮) ধনঞ্জয় কে?
উঃ-ধনঞ্জয় হলেন অর্জুন।


৩৯) জটাধরঃ সন্ জুঘুভীয় পাবকম্-উক্তিটি কার? কেন একথা বলেছেন?
উঃ- উক্তিটি হল দ্রুপদ রাজকন্যা দ্রৌপদী।তিনি এটি যুধিষ্ঠিরকে বলেছেন।
যুধিষ্ঠির ক্ষাত্রতেজ ত‍্যাগ করে ক্ষমাকেই চিরকালের জন্য সুখের কারণ হিসেবে মনে করে নিজের দুর্দশা প্রতিকারের কোনোরূপ চেষ্টা করছিলেন না। তাই দ্রৌপদী তাকে ব্যঙ্গ করে এই কথাটি বলেছিলেন।


৪০)দ্রৌপদী মতে শত্রুজয়ের জন্য রাজাকে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করতে বলেন?
উঃ- দ্রৌপদীর মতে শত্রুজয়ের জন্য রাজাকে প্রথমে শান্তি ত্যাগ করে ক্ষাত্রতেজ ধারন করতে হবে এবং শঠতার মাধ্যমে সঙ্গী ভঙ্গ করতে হবে।


৪১) সময় পরিক্ষণম্ এবং সন্ধিদূষনানি-পদদুটির অর্থ কি?
উঃ- সময়পরীক্ষণ পদটির অর্থ সময়ের প্রতীক্ষা বা শপথ প্রতিপালন।
এবং সন্ধিদুষনানি পদটির অর্থ সন্ধিভঙ্গ।


৪২)নিরাশ্রয়া হন্তা হতা মনস্বিতা- উক্তিটি কার? মনস্বিতা কখন আশ্রয় হারিয়ে নিহত হয়?
উঃ-দ্রুপদ রাজকন্যা দ্রৌপদী এই উক্তিটি করেছেন।
তেজস্বী ও যশোস্বী ব্যক্তির যদি অসহ্য পরাজয় স্বীকার করে সন্তুষ্টচিত্তে অবস্থান করে তাহলে মনস্বিতা আশ্রয়হীন হয়ে নিহত হয়।


৪৩)বরং বিরোধিপি সমং মহাত্মাভি- উক্তিটির তাৎপর্য লেখ?
উঃ- দুর্যোধনের বিবেচনা বোধ থাকে না তারা মহান অনর্থের সৃষ্টি করে। তাদের বন্ধুত্ব স্থাপন করে নীচতা প্রকাশ করে।তাই উন্নতকামী ব্যক্তিরা দুর্জনদের সংসর্গ অপেক্ষা সজ্জনদের সঙ্গে বিরোধকে শ্রেয়ঃ মনে করে। কারণ সজ্জন ব্যক্তিরা কখনোই অনর্থ সৃষ্টি করে না।


৪৪)স্তুতিগীতি মঙ্গলৈঃ- কথাটির অর্থ কি?
উঃ-বৈতালিকদের মাঙ্গলিক স্তুতিগান।

আরো পড়ুন

কিরাতার্জুনীয়ম্ অনুসারে দ্রৌপদীর উক্তির আলোকে পঞ্চপান্ডবের দুর্দশা বর্ণনা

Leave a Comment