ভারতীয় জ্যোতির্বিদ: ব্রহ্মগুপ্ত

ব্রহ্মগুপ্ত ভারতীয় জ্যোতির্বিদ ।

ভারতীয় জ্যোতির্বিদ ব্রহ্মগুপ্ত

জন্ম ৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে
পিতার নাম জিষ্ণু
গ্রন্থ(১) ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত
(২) খণ্ডখাদ্যক।

ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য স্মরণীয় নাম ব্রহ্মগুপ্ত। প্রথম ভাস্করাচার্যের সমসাময়িক প্রশ্নগুপ্ততৎকালীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখতে পারেন। নি ভারতের সুপ্রসিদ্ধ বীজগণিতাচার্য ও জ্যোতির্বিদ রত্নগুপ্ত ৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রহ্মগুপ্তের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত’ জানা যায়, চাপবংশীয় রাজা ব্যাঘ্রমুখের রাজত্বকালে ৫৫০ শকাব্দে (শকাব্দের সঙ্গে ৭৮ যোগ করলে খ্রিস্টাব্দ পাওয়া যায়) তিনি ত্রিশ বছর বয়সে ‘ব্রয় ফুটসিদ্ধান্ত’ রচনা করেন। এ থেকে জানা যায় তাঁর গ্রন্থ রচনাকাল ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে এবং জন্ম ৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে। পিতার নাম জিষ্ণু ।

ব্রহ্মগুপ্ত রচিত গ্রন্থ

ব্রহ্মগুপ্ত রচিত ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের মহামূল্যবান দুটি গ্রন্থ হল – (১) ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত, (২) খণ্ডখাদ্যক।

প্রস্ফুটসিদ্ধান্ত

জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিতের মহামূল্যবান গ্রন্থ হল ‘ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত’। প্রশ্নসিদ্ধান্ত ও শারুল্যাসিন্ধান্তের উপর ভিত্তি করে এটি রচিত। এতে ২৪টি অধ্যায়, ১,০০০ অর্থা আছে। এর দ্বাদশ অধ্যায়ে পাটিগণিত এবং অষ্টাদশ অধ্যায়ে বীজগণিতের চেনা, আর অন্যান্য অধ্যায়গুলিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আছে। অলবিরুনির বিবরণে জানা যায়, তিনি এই প্রশ্নটি গড়েন এবং আরবদেশে এই সিদ্ধান্ত সিন্দহিন্দ নামে পরিচিত ছিল। ভাস্করাচার্য প্রশ্নগুপ্তকে গণকচক্রচূড়ামণি উপাধি দিয়েছেন।

রহুস্ফুটসিধান্ত’-এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল –

  • (১) এই গ্রন্থে গোল জ্যোতিষ, পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি আলোচিত হয়েছে।
  • (২) যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং ভগ্নাংশের প্রয়োগ পদ্ধতি আলোচিত হয়েছে।
  • (৩) ভগ্নাংশের যোগ এবং ভগ্নাংশকে লঘিষ্ঠ আকারে পরিণত করার পদ্ধতির উদাহরণ আছে।
  • (৪) এই গ্রন্থে শূন্য প্রতীকের ব্যবহার দেখা যায়।
  • (৫) এই গ্রন্থে বলা হয়েছে – বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র বিয়োগ করলে ধনাত্মক, ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক বিয়োগ করলে ধনাত্মক, ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর বিয়োগের ক্ষেত্রে এর ফল বিপরীত হয়।
  • (৬) আধুনিক বীজগণিতের নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত
    • a-(-b)=–ab
    • axb=ab
    • -ax(-b)=ab

ব্রহ্মগুপ্তের সূত্র

ব্রহ্মগুপ্ত এভাবে বলেছেন –

ধনাত্মক ও খ্যাকে রাশিষয়ের গুণফল কণাত্মক, দুটি ঋণাত্মক রাশির গুণফল ধনাত্মক হয়।

  • ব্রহ্মগুপ্ত ‘ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত’-এ গণিতের অঙ্গ হিসাবে জ্যামিতির । করেন তিনি এই গ্রন্থে ক্ষেত্র ব্যবহার অংশে ত্রিভুজ, চতুর্ভূজ, ট্রাপিজিয়াম অভৃতির ক্ষেত্রফলের কথা আলোচনা করেন।
  • পাটিগণিত আশে অংশ, প্রগতি, বিভাগ, সামতলিক ক্ষেত্র সম্বন্ধে পরিমিতি ও অয়নের বিষয়ে নানাপ্রকার সমাধান পদ্ধতি আলোচিত হয়েছে।

খণ্ডখাদ্যক:

ব্রহ্মগুপ্তের পরিণত বয়সে লেখা এই গ্রন্থটি দুটি অংশে বিভক্ত –

(১) মূল খণ্ডখাদ্যক –

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দিক দিয়েনির্ণীত বিভিন্ন মান, গ্রহণের গণনা প্রভৃতি আলোচিত।

(২) উত্তর খণ্ডখাদ্যক –

এতে মূল গ্রন্থের সংস্কার দেখা যায়। ভট্টোৎপল (শান শতক) এই গ্রন্থের টীকাকার। গুপ্তযুগের টীকাকারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভট্টোৎপদ (দশম শতক), অমরবাজ, পৃথুদকস্বামী প্রমুখ।

ভারতীয় তর্ব্যা ও গণিতশাস্ত্রের ইতিহাসে ব্রহ্মগুপ্ত এক চিরস্মরণীয় নাম। দ্রাঘিমা ও অক্ষাংশের লঙ্গন ও অবনতি বৈষম্যের প্রভাব, পূর্ববর্তী অনেক গণনারীতির সংস্কারসাধন ও মৌলিক গবেষণামূলক অবদানের জন্য ব্রহ্মগুপ্ত জ্যোতির্বিজ্ঞানের হয়ে থাকবেন।

Leave a Comment