তর্কসংগ্রহ: জহল্লক্ষণা ও অজহল্লক্ষণা পার্থক্য

জহল্লক্ষণা ও অজহল্লক্ষণা পার্থক্য আলোচনা কর ।

জহল্লক্ষণা ও অজহল্লক্ষণা পার্থক্য আলোচনা

উ:- শক্তির আশ্রয়ীভূত পদার্থের সহিত সম্বন্ধকেই লক্ষণা বলে। এই লক্ষণাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

“জহল্লক্ষণা, অজহল্লক্ষণাজহদজহলক্ষণাশ্চেতি।”

জহল্লক্ষণা ও অজহল্লক্ষণা মধ্যে বেশ কিছু বৈসাদৃশ্য

জহল্লক্ষণা ও অজহল্লক্ষণার শক্তির আশ্রয়ীভূত পদার্থের সহিত সম্বন্ধ থাকলেও এদের মধ্যে বেশ কিছু বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।যেমন-


i) জহল্লক্ষণার লক্ষণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে-

” যত্র বাচ‍্যার্থস‍্যান্বয়ভারুতত্রজহদিতি।”

অর্থাৎ যেসব স্থলে বাচ‍্যার্থের শক্তিলভ‍্য অর্থের সঙ্গে অন্য পদের অন্বয় সম্ভব হয় না তাকে জহল্লক্ষণা বলে।
অপরদিকে, অজহল্লক্ষণা লক্ষণ প্রসঙ্গে বলেছেন-

” যত্র বাচ‍্যার্থস‍্যান্বয়ভারুতত্রাজহদিতি।”

অর্থাৎ যেসব স্থলে বাচ্চাদের শহীদ অন্যপথের অন্যায় সম্ভব হয় তাকে অজহল্লক্ষণা বলে।

ii) জহল্লক্ষণার উদাহরনের বলা হয়েছে-‘মঞ্চাক্রোশন্তি।’

এই স্থলে মঞ্চ অচেতন থাকার ফলে চিৎকার করা সম্ভব নয়। এই জন্য মঞ্চস্থ পুরুষের লক্ষণা স্বীকার করতে হয়।
অজহল্লক্ষণার উদাহরণে বলা হয়েছে- ” ছত্রিনো গচ্ছন্তি”। এই শব্দের দ্বারা ছত্রী, পদাতি, গজারোহী, অশ্বারোহী প্রভৃতি বহুলোকের গমন বোঝায়। এখানে ছত্রী পদের যথার্থ পরিত্যক্ত হয়নি বলে একে অজহল্লক্ষণা বলে।

iii) জহল্লক্ষণার ‘জহৎ’ শব্দের অর্থ ত্যাগ অর্থাৎ বাচ‍্যার্থের ত‍্যাগ হয়। ‘ গঙ্গায়াংঘোষঃ।’ বললে গঙ্গা শব্দে নদীর তীর বুঝতে হবে।
অপরদিকে অজহল্লক্ষণার ক্ষেত্রে বাচ‍্যার্থেদের পরিবর্তন হয় না।

Leave a Comment